নিত্যপণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে ও কৃষি খাতের উৎপাদন নিশ্চিতের জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাল, ডাল, চিনি ও সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৩৯৩ কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য স্থানীয় দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চিনি ও মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টন চিনি ৫৯ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনা হবে। এক্ষেত্রে প্রতি কেজি চিনির দাম পড়বে ১১৮ টাকা ৪৩ পয়সা। এছাড়া চট্টগ্রামের মেসার্স পায়েল ট্রেডার্স থেকে ৯৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকায় কেনা হবে ১০ হাজার টন মসুর ডাল। এতে প্রতি কেজির দাম পড়বে ৯৬ টাকা ৬৯ পয়সা।
সভায় মিয়ানমার থেকে আতপ চাল ও ভারত থেকে নন-বাসমতী চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমার থেকে জিটুজি পর্যায়ে এক লাখ টন আতপ চাল আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৬১৮ কোটি টাকা। প্রতি টন চালের দাম ধরা হয়েছে ৫১৫ মার্কিন ডলার।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ভারত থেকে ৫০ হাজার টন নন-বাসমতী সেদ্ধ চাল আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ২৮০ কোটি ৬২ লাখ টাকা। প্রতি টন চালের দাম ধরা হয়েছে ৪৬৭ ডলার ৭০ সেন্ট।
কাতার, সৌদি আরব ও মরক্কো থেকে সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। তিনটি প্রস্তাবই শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে এসেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে কাতার এনার্জি মার্কেটিং থেকে ৩০ হাজার টন ব্যাগড প্রিল্ড ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৩৩ কোটি ৮ লাখ ১২ হাজার টাকা। প্রতি টন সারের দাম পড়বে ৩৬৯ ডলার ৬৭ সেন্ট। সৌদি আরব থেকে ১২৩ কোটি ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকায় ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার (অপশনাল) ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রতি টনের দাম ধরা হয়েছে ৩৪২ ডলার ৩৩ সেন্ট। এছাড়া চট্টগ্রামের টিএসপিসিএলের জন্য ৩০ হাজার টন রক ফসফেট (ন্যূনতম ৭০ শতাংশ বিপিএল) মরক্কো থেকে আমদানির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এতে ব্যয় হবে ৮২ কোটি ৬২ লাখ টাকা। প্রতি টনের দাম পড়বে ২২৯ ডলার ৫০ সেন্ট।
ক্রয় কমিটির সভায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘রিভার প্রজেক্ট’-এর আওতায় তিনটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ কাজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৪২৮ কোটি ১৬ লাখ ১৯ হাজার ১৯৭ টাকা। সুপারিশকৃত দরদাতা তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড। একই প্রকল্পের জন্য পরামর্শক নিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৬২ কোটি ২০ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩ টাকা। এছাড়া এ প্রকল্পের অধীনে কুড়িগ্রাম জেলায় ৫৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণকাজের জন্য ৩৮১ কোটি ৯৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬১৬ টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘কোস্টাল টাউনস ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট (সিটিসিআরপি)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক নিয়োগের জন্য ৫৮ কোটি ৬২ লাখ ৬২ হাজার ৮১৩ টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
এছাড়া গতকাল অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় দুটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ক্রয়ের লক্ষ্যে ক্রয় প্রক্রিয়ার সময় হ্রাস করাসংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এছাড়া সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে সব রুটিন ইপিআই ভ্যাকসিন নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহের জন্য সরাসরি ইউনিসেফের মাধ্যমে ক্রয়ের বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।